↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৪২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:৩২ পি.এম

কর্মসংস্থান ও আয় বাড়াতে বাংলাদেশকে ১৫০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের তরুণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয়ের সুযোগ বাড়াতে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট’ (রেইজ) প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১৫০.৭৫ মিলিয়ন (১৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার) মার্কিন ডলার অনুমোদন করেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকল্পের এই নতুন পর্যায়ের মাধ্যমে সারা দেশে আরও প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার তরুণের জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি হবে। এর আগে এই প্রকল্পের আওতায় ২ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। অতিরিক্ত এই অর্থায়নের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম কেবল শহর কেন্দ্রিক না রেখে গ্রামীণ পর্যায়েও বিস্তৃত করা হবে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এর সুফল পায়।

অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি সমন্বিত সেবা প্যাকেজ নিশ্চিত করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি (অ্যাপ্রেন্টিসশিপ), উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা। বিশেষ করে নারী ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের ওপর এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই প্রকল্পের আওতায় মানসম্মত ও সাশ্রয়ী ‘হোম-বেসড’ শিশুযত্ন সেবার একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। এটি একদিকে যেমন নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়াবে, অন্যদিকে পরিচর্যা বা কেয়ার সেক্টরে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এছাড়া নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে প্রার্থীদের সংযোগ ঘটিয়ে দিতে চাকরি মেলার আয়োজন এবং দরকষাকষিতে সহায়তার মতো কার্যক্রমও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর গেইল মার্টিন বলেন, “একটি ভালো চাকরি একজন ব্যক্তির জীবন ও সমাজকে বদলে দিতে পারে। প্রতি বছর অনেক বাংলাদেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও কাঙ্ক্ষিত কাজ পান না। এই অর্থায়ন নিম্ন আয়ের পরিবারের তরুণদের, বিশেষ করে নারীদের বাজার-চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা এবং সম্পদ অর্জনে সহায়তা করবে।”

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ সামাজিক সুরক্ষা অর্থনীতিবিদ ও প্রকল্পের টিম লিডার আনিকা রহমান জানান, রেইজ প্রকল্প প্রমাণ করেছে যে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে। এই নতুন অর্থায়ন সেই সফল উদ্যোগগুলোকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করবে।