বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের গভীর শোক

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল, যার মৃত্যুতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে শোকাহত।
প্রধান উপদেষ্টা তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও জনগণের আবেগের প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার চলতি মাসেই তাকে ‘রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তার ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি ৯ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় মাইলফলক স্থাপন করেন। পাশাপাশি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলেন।
প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে অভাবনীয় সফল ছিলেন এবং তিনি কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সবকটি সাধারণ নির্বাচনে তিনি প্রতিটি আসনে জয়লাভ করেছিলেন। গত এক দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় তাকে দীর্ঘ সময় কারাবাস করতে হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে, প্রধান উপদেষ্টা বেগম খালেদা জিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানান। জাতির এই অপূরণীয় ক্ষতিতে তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করার অনুরোধ করেছেন।