সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ৪০ দিনের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আগামী ৪০ দিনকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সময়টিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া যাবে। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করার পাশাপাশি তিন মেট্রোপলিটনে নতুন পুলিশ কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ বা ২১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, গত ১৭ মাসে দেশে রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্রিক ৯১৪টি সহিংসতায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে ১৩৩ জন এবং আসক-এর প্রতিবেদনে ১০২ জন নিহতের তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩ জন নিহত ও প্রায় পাঁচশ মানুষ আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নির্বাচনের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে গত ৫ আগস্টের পর থানা থেকে লুণ্ঠিত ১,৩৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, যা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদর দফতর থেকে এসব লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী চেকপোস্ট ও দৃশ্যমান তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ভোটের নিরাপত্তায় এবার বিশাল এক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৪৫ হাজার পুলিশ, প্রায় ৬ লাখ আনসার-ভিডিপি এবং ৯০ হাজারের বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণে সাড়ে চার হাজার বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী শনিবার এক অনুষ্ঠানে জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি বলেন, ২১ বা ২২ জানুয়ারি প্রচার শুরু হলে মূল জটিলতা তৈরির সম্ভাবনা থাকে। তবে আগামী ৪০ দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।