↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:১২ এ.এম

মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাল্টা পদক্ষেপ, ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বহিষ্কারের জেরে ভারতের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়ে দিয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপ খেলতে ভারত যাবে না বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্তের কথা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) অবহিত করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ভারত যেখানে একজন মোস্তাফিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, সেখানে পুরো ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা তারা কীভাবে দেবে? এ প্রসঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘গোলামির দিন শেষ হয়েছে।’ তিনি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে বিসিসিআই-এর নতি স্বীকারের তীব্র নিন্দা জানান। একইসঙ্গে তিনি তথ্য উপদেষ্টাকে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ জানান এবং বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তুলতে বিসিবি-কে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুপ থাকার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “খেলার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা হয়েছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের আইনি ভিত্তিগুলো যাচাই করছি।” সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও ভারতের এই সিদ্ধান্তকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভুয়া অভিযোগ তুলে ভারতের উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠন ও বিজেপি নেতাদের চাপের মুখে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজকে বহিষ্কার করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। কেকেআর মালিক শাহরুখ খানকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিয়ে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো। মোস্তাফিজকে বহিষ্কারের পর বিজেপি নেতা সংগীত সোম ও নরেন্দ্র কাশ্যপ একে ‘সনাতনীদের জয়’ হিসেবে উল্লাস প্রকাশ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কূটনীতিকরা মনে করছেন, ভারতের এই শত্রুভাবাপন্ন নীতি দুদেশের জনগণের মধ্যে বৈরিতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। কূটনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আপাতত ভারত সফর বর্জন এবং বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ঢাকা, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।