↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৫২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:০৪ পি.এম

সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে তথ্যের বড় গরমিল

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নির্বাচনী হলফনামা ও আয়কর রিটার্নের তথ্যে বড় ধরনের গরমিল লক্ষ্য করা গেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া নথিপত্রে এই অসংগতি উঠে আসে।

২৭ বছর বয়সি এই প্রার্থী হলফনামায় নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। সেখানে তিনি ব্যবসা খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। তবে একইসঙ্গে জমা দেওয়া ২০২৫-২৬ সালের আয়কর রিটার্নে দেখা যাচ্ছে, তার বার্ষিক আয় ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ হলফনামায় উল্লিখিত তথ্যের চেয়ে আয়কর রিটার্নে তার আয়ের পরিমাণ তিনগুণেরও বেশি। একই হলফনামায় আয়ের এমন ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

আয়ের পাশাপাশি সম্পদের তথ্যেও অসংগতি পাওয়া গেছে। সারজিস আলম তার আয়কর রিটার্নে মোট ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু হলফনামার বিস্তারিত বিবরণে তার প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সারজিসের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১ লাখ টাকা। এর বাইরে তার ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য ও ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। তবে তার কোনো স্বর্ণালংকার নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে সারজিস আলম দান হিসেবে পাওয়া সাড়ে ১৬ শতাংশ কৃষিজমির কথা জানিয়েছেন। অর্জনের সময় এই জমির মূল্য সাড়ে ৭ হাজার টাকা থাকলেও বর্তমানে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে হলফনামার হিসাব অনুযায়ী তিনি বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক।

নির্বাচনী হলফনামায় তথ্যের এমন গরমিল নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অসংগতির বিষয়ে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।