↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:১০ এ.এম

শীতকালে হাড় ও জয়েন্টের ব্যথা বাড়ার বৈজ্ঞানিক কারণ ও প্রতিকার

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে ঘরে বয়স্কদের মধ্যে হাঁটু, কোমর বা হাড়ের জোড়ায় ব্যথার অভিযোগ বাড়তে দেখা যায়। এটি কেবল কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং এর পেছনে স্পষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

কেন ব্যথা বাড়ে: বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীদের মতে, শীতে তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরের রক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর ফলে জয়েন্ট বা পেশিতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, যা অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ কমিয়ে দেয়। এর ফলে জয়েন্টে শক্ত ভাব বা জড়তা তৈরি হয়ে ব্যথার উদ্রেক করে।

এছাড়া শীতকালে বায়ুমণ্ডলের চাপ (Barometric pressure) কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই চাপের পরিবর্তনে জয়েন্টের ভেতরের টিস্যু বা তরল পদার্থ সামান্য ফুলে উঠতে পারে, যা ব্যথার অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তোলে। বিশেষ করে যারা বাতের সমস্যায় ভুগছেন, তারা এই পরিবর্তন দ্রুত অনুভব করেন। পাশাপাশি সূর্যালোকের অভাবে শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এবং শীতে কম নড়াচড়া করার ফলেও হাড় দুর্বল হয়ে ব্যথা বাড়ে।

উপশমের ঘরোয়া উপায় চিকিৎসকদের মতে, সব ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হয় না। কিছু সহজ ঘরোয়া অভ্যাসের মাধ্যমেই এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব:

১. গরম সেঁক ও মালিশ: হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম তোয়ালে দিয়ে দিনে ২-৩ বার সেঁক দিলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। এছাড়া হালকা গরম সরিষার তেল বা অলিভ অয়েল মালিশ পেশিকে আরাম দেয়।

২. সক্রিয় থাকা ও শরীর গরম রাখা: ব্যথার ভয়ে নড়াচড়া বন্ধ না করে ঘরের ভেতরেই হালকা হাঁটাচলা বা স্ট্রেচিং করা উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত গরম কাপড় এবং উলের মোজা ব্যবহার করে জয়েন্টগুলো ঢেকে রাখতে হবে।

৩. পুষ্টিকর খাবার ও রোদ: আদা, হলুদ ও রসুনের মতো প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক সমৃদ্ধ খাবার এবং গরম পানীয় ডায়েটে রাখা জরুরি। এছাড়া ভিটামিন ডি-এর জন্য প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট সকালের রোদ পোহানো প্রয়োজন।

সতর্কতা তবে ঘরোয়া পরিচর্যাই সব সময় যথেষ্ট নয়। যদি ব্যথার স্থান ফুলে যায়, লালচে হয়ে ওঠে কিংবা ব্যথার সঙ্গে জ্বর থাকে, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের আর্থ্রাইটিস বা অস্টিওপোরোসিস রোগীদের ক্ষেত্রে শীতকালীন বিশেষ সতর্কতা ও নিয়মিত ফলোআপ জরুরি।

পরিশেষে, নিয়মিত নড়াচড়া এবং সামান্য সচেতনতাই শীতকালকে যন্ত্রণামুক্ত ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।