↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪২ এ.এম

ফরিদপুরে পরিত্যক্ত ব্যাগে মেলা রিমোট কন্ট্রোল বোমাটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকায় পরিত্যক্ত ব্যাগে পাওয়া বোমাটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী ছিল বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা বিশেষ নিরাপত্তায় রাখার পর রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শহরের গোয়ালচামট প্রতিমা বিসর্জন ঘাটে পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের (এটিইউ) একটি বোম্ব ডিসপোজাল টিম এটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে।

অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত বোমাটি ছিল একটি আধুনিক আইইডি (ইম্প্রোভাইজ এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস), যা রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটি সাধারণ হাতবোমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী। নিষ্ক্রিয় করার সময় প্রায় ১০০ মিটার দূর থেকে তারযুক্ত যন্ত্রের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে বিকট শব্দে প্রায় ২০ ফুট উঁচুতে ধোঁয়া এবং ৫০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত স্প্লিন্টার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ছিটকে পড়ে।

এর আগে শনিবার সকালে শহরের আলীপুর আলীমুজ্জামান সেতুর পূর্ব-দক্ষিণ প্রান্তে একটি নীল রঙের ব্যাগের ভেতর বোমা সদৃশ বস্তুটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা এলাকাটি ঘিরে ফেলেন। দুপুরে সেনাবাহিনীর একজন বিশেষজ্ঞ সদস্য ব্যাগটি উদ্ধার করে নিকটবর্তী কুমার নদের পাড়ে বালুর বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখেন। রাতভর কড়া পাহারার পর রোববার সকালে এটিইউ-এর ১০ সদস্যের একটি দল বিশেষ পোশাকে ও বুলেটপ্রুফ সরঞ্জাম ব্যবহার করে এটি নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করেন।

পুলিশের অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ বলেন, “বোমাটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির উদ্দেশ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল।”

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে জনাকীর্ণ স্থানে এই শক্তিশালী বোমাটি রেখেছিল, তাদের শনাক্ত করতে শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্ক অনেকটা কেটে গেছে।