আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও এনসিপি থেকে ৫ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান

খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক দলবদল ঘটেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। জেলা বিএনপির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে দলীয় প্রার্থী ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত হন।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মাটিরাঙ্গা পৌরসভা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন এবং এনসিপির উপজেলা কমিটির সদস্য লিটন বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন, এই যোগদান সেই পথকে আরও শক্তিশালী করবে। এর ফলে মাটিরাঙ্গায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুসংহত হবে এবং আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনী রাজনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
যোগদানকারী নেতারা তাদের প্রতিক্রিয়ায় জানান, বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের প্রতি আস্থা রেখেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাবেক জাপা নেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, জনগণের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভূমিকা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। অন্যদিকে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানাতেই তারা দলটিতে যোগ দিয়েছেন।
তবে নেতাকর্মীদের দলত্যাগের বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন অন্যান্য দলের জেলা নেতৃবৃন্দ। জাতীয় পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা দাবি করেন, যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া বাকিরা সুপরিচিত নন, তাই এটি নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। একই ধরণের মন্তব্য করেছেন এনসিপি’র জেলা সদস্যসচিব সুবোধ বিকাশ চাকমা। তিনি জানান, যারা যোগ দিয়েছেন তারা দলের সক্রিয় সদস্য নন।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের যোগদানের বিষয়ে মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপি সভাপতি মো. শাহজালাল জানান, যাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অতীতে কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই, তাদেরকেই বিএনপিতে গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।