↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:০১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৩১ এ.এম

১১ দলীয় জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম দ্বন্দ্ব, ভাঙনের শঙ্কায় জামায়াত-চরমোনাই

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর ভোটের মাঠে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিলেও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে আসন বণ্টন নিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা না হওয়ায় এখন জোট ভাঙার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দুই প্রধান পক্ষই এখন একে অপরকে ছাড়া বিকল্প নির্বাচনী কৌশলের কথা ভাবছে।

গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার জন্য জামায়াত সংবাদ সম্মেলন ডাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করতে হয়। চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জোট ত্যাগের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে সর্বোচ্চ ৪৫টি আসন ছাড়তে রাজি হলেও তারা কমপক্ষে ৬৫ থেকে ৭০টি আসন দাবি করছে। দলটির আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম স্পষ্ট জানিয়েছেন, সম্মানজনক আসন সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো যৌথ কর্মসূচিতে যাবেন না।

এদিকে, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও আসন সংখ্যা নিয়ে অসন্তুষ্ট। জামায়াত তাদের ১৬টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তারা ২৫টি আসনের দাবিতে অনড়। মামুনুল হক জামায়াতকে জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন না এবং এই সংকট সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন।

জামায়াতের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোট ছেড়ে চলে গেলে তারা এনসিপি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জামায়াতের জরিপ অনুযায়ী, এনসিপির জনসমর্থন ৭ শতাংশ এবং তারা ৩০টি আসনে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলনের জনসমর্থন ৩ শতাংশ হওয়া সত্ত্বেও তারা অতিরিক্ত আসনের দাবিতে অনড় রয়েছে বলে মনে করছেন জামায়াত নেতারা।

পাল্টা অবস্থানে রয়েছে ইসলামী আন্দোলনও। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বৈঠকে অধিকাংশ সদস্য এককভাবে নির্বাচন অথবা সমমনা অন্য দলগুলোকে নিয়ে নতুন জোট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। দলের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে সমঝোতা না হলে বিকল্প জোটের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সেক্ষেত্রে দুই খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন ও নেজামে ইসলামকে নিয়ে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বে নতুন মোর্চা গঠিত হতে পারে।

জোটের এই টানাপোড়েন সত্ত্বেও প্রকাশ্যে নেতারা ইতিবাচক কথা বলছেন। জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, কয়েকটি আসন নিয়ে মতভিন্নতা থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুতই সংকটের সমাধান হবে এবং নতুন করে সংবাদ সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, আসন সংখ্যা নিয়ে দলগুলোর অনড় অবস্থান দীর্ঘদিনের এই জোটকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।