রাজনৈতিক দলগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিয়ে নীলা ইস্রাফিলের প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং জাতীয় নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণের প্রকৃত চিত্র নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মী নীলা ইস্রাফিল। সম্প্রতি ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীদের ভূমিকা এবং ক্ষমতায়ন কতটুকু প্রতিফলিত হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।
নীলা ইস্রাফিল জানান, দেশে বর্তমানে সক্রিয় ৫০টি রাজনৈতিক দলের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মধ্যে অন্তত ৩০টি দলেই কোনো নারী প্রার্থী নেই। অন্যান্য দল গুলোতে নারী প্রার্থী একরকম নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদে নারীদের প্রকৃত অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে নারীরা রাজপথে লড়াই করে এবং অকুতোভয় ভূমিকা রেখে একটি ‘নতুন রাষ্ট্র’ অর্জনে সহায়তা করেছেন, নির্বাচনের সময়ে এসে তাদের সেই সক্রিয়তা বা শক্তিশালী অবস্থান কেন দেখা যাচ্ছে না।
বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির তুলনা করতে গিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রাজনীতিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট চিন্তা ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা, নারীদের জন্য নিরাপদ বাস সার্ভিস এবং অন্তত এক লাখ নারীকে স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়োজিত করার মতো সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের কথা তিনি তুলে ধরেন।
নীলা ইস্রাফিল প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতায় গেলে নারীদের ভাগ্যোন্নয়নে তারা কী করবে, সে বিষয়ে অন্য দলগুলো কেন এখনো নীরব রয়েছে। তার মতে, অধিকাংশ দলই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো নারী কেন প্রতিবাদ করছেন না বা বক্তব্য দিচ্ছেন না, তা নিয়েও তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীর সমানাধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে দলগুলোকে শুধু কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বরং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই মানবাধিকার কর্মী। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।