জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ভারতের ব্যাখ্যা

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকের সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে ভারত। নয়া দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সাক্ষাৎটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নয়, বরং এটি ছিল একটি ‘নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ’। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া জামায়াত আমিরের একটি সাক্ষাৎকার থেকে। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালে তার বাইপাস সার্জারি হওয়ার পর ভারতের একজন কূটনীতিক তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তবে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেভাবে প্রকাশ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টি সেভাবে করা হয়নি। জামায়াত আমিরের দাবি অনুযায়ী, ভারতীয় কূটনীতিক এই সাক্ষাতের বিষয়টি গোপন রাখতে অনুরোধ করেছিলেন।
এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিষয়ে একটি ব্যাখ্যাও প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ নীরব থাকার পর অবশেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরল।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের হাই কমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে সেদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ রক্ষা করেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ভারতের এই যোগাযোগকেও সেই স্বাভাবিক প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।”
মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং সকল অংশীজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অংশ হিসেবেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে বিশেষ গোপনীয় বা অস্বাভাবিক কিছু হিসেবে স্বীকার করা হয়নি। বরং একে একটি নিয়মিত কূটনৈতিক শিষ্টাচার হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে।