↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪৯ এ.এম

দলের কেউ অপরাধ করলে একচুলও রেহাই নেই: মির্জা ফখরুল

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আওয়ামী লীগ আমলের দখলদারি ও দুর্বৃত্তায়নের ছায়া যাতে নিজের দলে না পড়ে, সে বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ের এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দলের কেউ যদি কোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তাকে একচুলও রেহাই দেওয়া হবে না। সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নিজের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সাত দিনের ম্যারাথন গণসংযোগের প্রথম দিনে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতেই পূর্বতন শাসকদলের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগের লোকেরা বাড়িঘর দখল করেছে, জমি কেড়ে নিয়েছে। আমরা সেই পথে হাঁটতে চাই না। আমার দলের কেউ যদি দুর্বৃত্তায়ন করে, তবে আমাদের জানান, তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের ‘দমবন্ধ করা’ পরিস্থিতির অবসান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি নেতাকর্মীদের মনে করিয়ে দেন যে, প্রতিহিংসার রাজনীতি বা মামলাবাজি করা যাবে না। এটি মূলত একটি ভ্রাতৃত্ববোধের সমাজ গড়ার লড়াই।

রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় ৭৮ বছর বয়সি এই নেতার কণ্ঠে এদিন আবেগ ঝরে পড়েছে। নিজের পৈতৃক জমি বিক্রি করে রাজনীতি করার স্মৃতিচারণ করে ফখরুল বলেন, “বয়স হয়েছে, এটাই আমার শেষ নির্বাচন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের সেবা করার শেষ সুযোগটি আমাকে দিন।” স্থানীয় ভাষায় ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “আপনারা কি আমাকে চেনেন না? নতুন করে কি মোক চেনাবা হবে?” তাঁর এই প্রশ্নে সভায় হাসির রোল উঠলেও উপস্থিত সাধারণ মানুষ এর মধ্যে এক গভীর আকুতি খুঁজে পেয়েছেন।

জামায়াতের নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই শক্তি পাকিস্তানি সেনাদের সহযোগিতা করেছিল, যা একটি ঐতিহাসিক সত্য। বিএনপি পাঁচবার দেশ চালিয়েছে এবং তারা পরীক্ষিত শক্তি উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের সঠিক পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান।

গড়েয়া গোপালপুর ইসকন মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় বিএনপি মহাসচিব তাদের নিজস্ব শক্তি ও প্রতিরোধের সাহস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “নিজের ভোট যাকে খুশি তাকে দেবেন।” সেখানে তাকে শঙ্খধ্বনি ও পুষ্পমাল্যে বরণ করে নেওয়া হয়।

বক্তব্যে তিনি কারাগারে থাকাকালীন নিজের ব্যক্তিগত কষ্টের কথা তুলে ধরেন। অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে না দেওয়ার স্মৃতিচারণ করে ফখরুল বলেন, “জেলে থাকা অবস্থায় আমার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে, তবুও আমায় মুক্তি দেওয়া হয়নি। অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু মাথা নত করিনি।”

ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি গণসংযোগে নামেন। আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন তিনি নির্বাচনি মাঠে অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।