↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:১৬ পি.এম

শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ৩০

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল এবং প্রার্থীরা মঞ্চে আসন গ্রহণ করার সময় বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত হয়। সামনের সারিতে বসা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলের কয়েকশ চেয়ার ভাঙচুর করে। এছাড়া মাঠের পাশে থাকা বেশ কিছু মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। এতে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন যে, বিএনপি সমর্থকরাই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা করেছে এবং এতে তাদের অন্তত ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, বসার জায়গাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো মামলা না হলেও লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।