রংপুরে তারেক রহমানের বিশাল জনসভা: ধানের শীষের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে এক বিশাল জনসভায় যুক্ত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে আয়োজিত এই সভায় তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি জুলাই সনদের সম্মানে প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।
জনাব তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিএনপি সংস্কার নিয়ে কোনো লুকোছাপা করেনি। জুলাই-আগস্টের বিপ্লব কোনো একক রাজনৈতিক দলের ইশারায় নয়, বরং জনগণের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণে ঘটেছে। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমসহ ১ হাজার ৪০০ শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জুলাই সনদে বর্ণিত অঙ্গীকারসমূহ রক্ষা করা নৈতিক দায়িত্ব। এজন্য তিনি ভোটারদের একটি ব্যালটে ধানের শীষ এবং দ্বিতীয় ব্যালট পেপারে ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।
রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জনাব তারেক রহমান বলেন, “রংপুর পিছিয়ে পড়া নয়, বরং দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ অঞ্চল।” তিনি পীরগঞ্জের কয়লা ও লৌহ খনি এবং দিনাজপুরের খনিজ সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া নদীমাতৃক এই অঞ্চলের পানির সংকট দূর করতে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের কথা জানান, যা কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আর্থিক খাতে বড় ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, যারা এনজিও থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে পরিশোধ করতে পারছেন না, বিএনপি সরকার গঠন করলে সেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণা দেন তিনি। তরুণ ও শিক্ষিত সমাজের কর্মসংস্থানের লক্ষে রংপুরে বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজাত কলকারখানা স্থাপনের জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ভোটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত ১৬ বছরের মতো ‘নিশিরাতের ভোট’ আর হতে দেওয়া হবে না। ভোটারদের পবিত্র আমানত রক্ষা করতে নির্বাচনের দিন ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়াতে এবং কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।
জনাব তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শেষে নারী সমাজকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গৃহিণীদের স্বাবলম্বী করতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার করে দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।