↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:৪২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৩৮ এ.এম

কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘শিক্ষা আইন, ২০২৬’ এর খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। এতে কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে ৩ থেকে ৫ বছরের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এই খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে শিক্ষা অঙ্গন ও অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার প্রথমে বিধিমালা করে কোচিং ও নোট-গাইডকে নিয়ন্ত্রণ করবে এবং পরবর্তীতে তা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট টিউটর বা সহায়ক বইয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক শিখনে ফিরিয়ে আনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং মূল পাঠ্যবই ভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই তাদের অগ্রাধিকার।

তবে এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু। তিনি এই পরিকল্পনাকে বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে একটি ‘লোক দেখানো’ উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। দুলু বলেন, আইনের খসড়ায় শাস্তির সুস্পষ্ট বিধান না থাকাটা জনগণের সাথে তামাশার শামিল। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৬ বছরেও যা বাস্তবায়ন হয়নি, তা সরকারের শেষ এক সপ্তাহে এসে করার চেষ্টা কেবল সরকারি কোষাগারের টাকা অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

অন্যদিকে, শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা কোচিং নির্ভরতাকে শিক্ষার মান হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নোট-গাইড এবং কোচিং প্রথার কারণে সচ্ছল ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশাল বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তারা মনে করেন, যদি কার্যকরভাবে এই প্রথা বন্ধ করা যায়, তবেই শিক্ষার্থীরা সৃজনশীল পদ্ধতিতে দক্ষ হয়ে উঠবে।

বর্তমানে খসড়াটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সেখানে তাদের মতামত প্রদান করতে পারবেন।