আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের আহ্বান জোনায়েদ সাকির

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, এবারের নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নয়, বরং এটি দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ‘মাথাল’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় জোনায়েদ সাকি বিগত সরকারের আমলের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে বহু মানুষ জীবন দিয়েছে এবং অগণিত মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সাকি বলেন, “কাউকে ভোট জালিয়াতি করতে দেওয়া হবে না। ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।” এ সময় তিনি ভোটারদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান, তারা যেন ভোট প্রদান শেষে ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রেই অবস্থান করেন।
বাঞ্ছারামপুরের স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্সে এই উপজেলা দেশের শীর্ষে থাকলেও এখানকার সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দশা অত্যন্ত বেহাল। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মিত হলে বাঞ্ছারামপুর শিল্প ও বাণিজ্যের বড় কেন্দ্রে পরিণত হবে। এছাড়া তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন।
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাকি আরও বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, নারী নিরাপত্তা, প্রবীণদের সেবা এবং শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই হবে তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি একটি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নৈতিক সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য এমএ খালেক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ বিএনপি ও জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।