↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮ এ.এম

‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাত অবধারিত’: জামায়াত প্রার্থী হাফিজ উল্যাহ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এ আর হাফিজ উল্যাহর একটি নির্বাচনী বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এলাকায় গণসংযোগের সময় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি দাবি করেন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে ভোটারদের জন্য জান্নাত অবধারিত। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাফিজ উল্যাহ ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যদি ইসলামের পক্ষে, পবিত্র কোরআনের পক্ষে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন; আপনারা আল্লাহর পক্ষে দিয়েছেন, পবিত্র কোরআনের পক্ষে দিয়েছেন; আপনাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, যারা কোরআনের বিরুদ্ধে ভোট দেবে, তারা গুনাহগার হবে।

বক্তব্যের অন্য অংশে তিনি স্থানীয় জনতাকে বিভিন্ন সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “মা-বোনদের জন্য বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, শিশু ভাতা, মাতৃকালীন ভাতাসহ জেলে কার্ড—এসব আপনারা পান না।” বর্তমান ও সাবেক বড় রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, একদল দুর্নীতি করতে করতে শেষ, আরেক দল ফের দুর্নীতি করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এ সময় তিনি নিজেকে আপনাদের সন্তান ও ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে এক টাকারও দুর্নীতি বা অনিয়ম না করার অঙ্গীকার করেন।

ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে এমন বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এ আর হাফিজ উল্যাহ জানান, এমন কোনো বক্তব্য তিনি দিয়েছেন কি না তা তার মনে নেই। তবে ভুল করে মুখ ফসকে এমন কিছু বলে থাকতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

বিষয়টি নিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, তিনি মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনেছেন এবং খতিয়ে দেখছেন। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। স্থানীয় সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।