↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৯ এ.এম

গাজীপুরে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যাতিত কঠোর নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মধ্য দিয়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া গাজীপুরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ৩৮টি মোবাইল টিম মাঠে ছিল বলে জানা গেছে।

নির্বাচনে গাজীপুর জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২৭ লাখ ৩৮ হাজার ২৪৯ জন। আসনভিত্তিক ভোটের হার হিসেবে গাজীপুর-১ আসনে ৪৮ শতাংশ, গাজীপুর-২ আসনে ৩৩ শতাংশ, গাজীপুর-৩ আসনে ৪৬ শতাংশ, গাজীপুর-৪ আসনে ৫৯ শতাংশ এবং গাজীপুর-৫ আসনে ৪৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।

তবে গাজীপুর-৪ আসনে কাপাসিয়া উপজেলার একটি কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে কাপাসিয়া উপজেলার ভাওয়াল চাঁদপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত চারজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী ইলিয়াস, চাঁদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তারেক, একই উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ইফতেখার এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শিকারপুর গ্রামের জামায়াতকর্মী মেজবাহ। তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে গাজীপুর-৩ আসনের শ্রীপুর উপজেলার একটি নারী ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। দুপুরে শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা ভোটকেন্দ্রে লাকী বেগম নামের এক নারী ভোটার প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে যান। পরে ভোটকক্ষে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান, তার ভোট ইতিমধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে কেন্দ্রে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

ভোটার অভিযোগ করার পর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হলে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে। প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—হারেছা খাতুন, মাসুম খান ও সালমা আক্তার। তাদের মধ্যে হারেছা খাতুন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তিনি উপজেলার গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। সালমা আক্তার দক্ষিণ ভাঙ্গাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং পোলিং এজেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নজরদারিতে গাজীপুরে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও কয়েকটি ঘটনায় উত্তেজনা ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।