↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৭ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:২৩ এ.এম

দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে; ভোটগ্রহণ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে- দাবী জামায়াতের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার নির্বাচন আজ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ ‘সুন্দরভাবে সম্পন্ন’ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের মানুষ গভীর আগ্রহ নিয়ে এ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন এবং তারা অংশগ্রহণ করেছেন।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল” বলেই ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি—সবকিছুকেই ধ্বংস করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, সেই ‘ধ্বংসস্তূপের’ ওপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান’ এর ফলে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল—বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন।

নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরাঞ্চলে থাকা অনেক মানুষও দলে দলে গ্রামে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। তার বক্তব্যে আরও আসে, নির্বাচনের পাশাপাশি ‘ঐতিহাসিক গণভোট’ও অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন ভোট গণনা চলছে।

তবে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কমিটমেন্ট ছিল—তারা কতটুকু তা রক্ষা করতে পেরেছে, তা দেশবাসী বিবেচনা করবে। তিনি জানান, সকাল থেকে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সাড়ে ৫২ হাজারেরও বেশি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা এবং একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। তিনি বলেন, পোস্টাল ভোট, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট—সব মিলিয়ে গণনা হবে এবং দেশবাসীসহ তারা আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

জামায়াত নেতা আরও দাবি করেন, সামগ্রিকভাবে নির্বাচনে ‘সবার আন্তরিকতা’ ছিল এবং সবাই চেষ্টা করেছেন বলেই বাংলাদেশে একটি ‘অনন্য ও সাধারণ’ নির্বাচন হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, খুব বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮ ও পটুয়াখালী-১ আসনসহ কিছু কেন্দ্রে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কিছু স্থানে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও নির্বাচনী কাজে জড়িতদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং তারা চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন জুবায়ের।

তিনি আরও বলেন, ভোট গণনা ও ফলাফল যেন সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়—এটি তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। ১১ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় অফিস থেকেও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানান তিনি। সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মেনে সময়ে সময়ে ২৯৯ আসনের ফল কতটুকু হলো—তা জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফল পেতে ‘কাল সকাল পর্যন্ত’ সময় লাগতে পারে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিতদের প্রসঙ্গে জানানো হয়, এসময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, এবি পার্টির নেতা আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, দপ্তর সম্পাদক মো. মিরাজ খান, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু এবং এলডিপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শেষদিকে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কিছু দুর্বলতা ও অনিয়ম বাদে সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচন দেশবাসী উপভোগ করেছে এবং অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে—দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ এবং শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।