যাকাত : ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ ও পবিত্রতা অর্জনের বিধান; জেনে নিন হিসাবের সহজ নিয়ম

ইসলামের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হলো যাকাত । এটি কেবল একটি দান নয়, বরং সম্পদের পবিত্রতা রক্ষা এবং সমাজে অর্থের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার একটি স্বর্গীয় মাধ্যম। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং যাকাত প্রদান কর।” (আয়াত ৪৩)।
যাকাত প্রদানের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পদকে পরিশুদ্ধ করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তাদের সম্পদ থেকে সদকা (যাকাত ) গ্রহণ কর, যা তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” (আবু দাউদ ১৫৮৪)। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলমান নর-নারীর জন্য এই বিধান পালন করা ফরজ।
যাকাতের নিসাব ও সম্পদের ধরন: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, যদি কারো কাছে ৭ তোলা (৮৭.৪৫ গ্রাম) স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা (৬১২.৩৫ গ্রাম) রৌপ্য অথবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসার পণ্য হিজরি এক বছর পর্যন্ত গচ্ছিত থাকে, তবে তিনি যাকাত প্রদানের যোগ্য বিবেচিত হবেন। সাধারণত চার ধরনের সম্পদের ওপর যাকাত ওয়াজিব হয়: স্বর্ণ, রৌপ্য, নগদ অর্থ এবং ব্যবসার পণ্য। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জমি, বাড়ি বা গাড়ি—যদি তা ব্যবসার উদ্দেশ্যে না হয়, তবে তার ওপর যাকাত প্রযোজ্য হবে না।
হিসাবের পদ্ধতি: যাকাত বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে মালিকানাধীন সমস্ত বর্ধনশীল সম্পদের মোট মূল্যের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ যাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়। উল্লেখ্য যে, বছরের মাঝপথে অর্জিত সম্পদও মূল হিসাবের সাথে যুক্ত হবে। সঠিক নিয়মে যাকাত আদায় করলে তা সমাজের দরিদ্র মানুষের অভাব দূর করতে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।