↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২ মার্চ ২০২৬, ৭:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২ মার্চ ২০২৬, ২:০৮ এ.এম

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চারমুখী বড় ধাক্কার ঝুঁকি

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর পাল্টা পাল্টি আঘাতের ঢেউ সরাসরি আছড়ে পড়ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের ইরানি হুমকি বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের গতিপথকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।

জ্বালানি ও হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ এলএনজি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিজিএমইএ এবং সানেম-এর বিশ্লেষকদের মতে, এই রুটটি বন্ধ হওয়া মানে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া। জ্বালানি আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য এটি হবে ‘ডাবল শক’। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে মাত্র ৫ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৪০-৫০ কোটি ডলার। এর সরাসরি প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে তীব্র চাপ তৈরি হবে।

রফতানি ও শিপিং বিপর্যয়: বাংলাদেশের রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। লোহিত সাগর বা মধ্যপ্রাচ্যের রুট অনিরাপদ হয়ে পড়লে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার ‘কেপ অব গুড হোপ’ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এতে পরিবহন সময় ১০-১৫ দিন এবং খরচ প্রায় ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে যাবে। ফলে রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজার: বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের মূল উৎস সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই অঞ্চলগুলো যুদ্ধের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে পড়লে প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমলে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমে যেতে পারে, যা আমদানিকৃত মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ: নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য সীমিত (প্রায় ১ কোটি ডলার) হলেও, সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি চরম অনিশ্চয়তার মুখে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে জ্বালানির বিকল্প উৎস খোঁজা, দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি এবং রফতানি বাজার বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। একইসঙ্গে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতি বজায় রেখে কৌশলগত কূটনীতির মাধ্যমে প্রবাসী শ্রমবাজার ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

Deepto Bangladesh