↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৭ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৬ মার্চ ২০২৬, ৪:৫৬ পি.এম

মাহে রমজান: সদকাতুল ফিতরের বিধান ও গুরুত্ব

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সদকাতুল ফিতর একটি ফজিলতপূর্ণ ওয়াজিব আমল। সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষ যেন ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারেন, সেজন্যই ইসলামের এই বিধান। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে রোজার সময়কার ছোটখাটো ত্রুটিবিচ্যুতিগুলোও মাফ হয়ে যায়।

ওয়াজিব হওয়ার শর্ত: ঈদের দিন সকালবেলা যিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন (অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা এর সমমূল্যের নগদ অর্থ বা ব্যবসায়িক পণ্য), তাঁর ওপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। তিনি নিজের এবং পরিবারের ছোট-বড় সবার পক্ষ থেকে এটি আদায় করবেন। তবে নিসাব পরিমাণ মালিক নন এমন ব্যক্তিরাও চাইলে সওয়াবের নিয়তে ফিতরা দিতে পারেন, যা সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে।

ফিতরার পরিমাণ ও মাধ্যম: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে সাহাবায়ে কিরাম এক ‘সা’ পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য (যব, কিশমিশ, পনির বা খেজুর) ফিতরা হিসেবে দিতেন। বর্তমানে চাল, আটা বা গম দিয়েও ফিতরা দেওয়া যায়। আটা বা গমের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম দেওয়া উত্তম বলে অনেক ফকিহ মত দিয়েছেন। তবে আধুনিক ফকিহদের মতে, যে এলাকায় যা প্রধান খাদ্য (যেমন আমাদের দেশে চাল), তা দিয়ে ফিতরা দেওয়া শ্রেয়।

উত্তম ফিতরা কোনটি? ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, যে দ্রব্য দ্বারা প্রদান করলে গরিবদের বেশি উপকার হয়, সেটাই সবচেয়ে উত্তম। ইনসাফ হলো—যিনি যে মানের চালের ভাত খান বা যে মানের খেজুর দিয়ে ইফতার করেন, তিনি সেই সমমানের বা সমমূল্যের ফিতরা প্রদান করবেন। নির্ধারিত খাদ্যের বদলে সমমূল্যের নগদ টাকা বা প্রয়োজনীয় পোশাক-আশাক ও ঈদের বাজার কিনে দিলেও ফিতরা আদায় হবে।

যাদের ফিতরা দেওয়া যাবে না: ফিতরা ও জাকাত নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি (ঊর্ধ্বতন), ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি (অধস্তন) এবং স্ত্রীকে দেওয়া যায় না। এছাড়া সায়্যদ বা কুরাইশ বংশের লোকেদেরও ওয়াজিব সদকা দেওয়া নিষেধ। এর বাইরে যেকোনো দরিদ্র ও অভাবী নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশীকে ফিতরা প্রদান করা যাবে।