↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ১০ মার্চ ২০২৬, ৭:২৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১০ মার্চ ২০২৬, ২:০০ এ.এম

‘ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবে না আরব আমিরাত’

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট উত্তজনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতিসংঘে নিযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ সাফ জানিয়ে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত কোনো সামরিক হামলায় আরব আমিরাত অংশ নেবে না। এমনকি তাদের ভূখণ্ড বা ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো আক্রমণের অনুমতিও দেওয়া হবে না।

রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি এবং এখনো অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলছি যে, আরব আমিরাত এই সংঘাতে জড়াবে না। আমরা কেবল উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছি।” তিনি অভিযোগ করেন, আমিরাত সরাসরি কোনো পক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও দেশটিকে ‘অযাচিতভাবে’ লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতে ১,৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে, যাতে ইতিমধ্যে ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, সম্প্রতি তুরস্ককে লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রচেষ্টাকে ‘বিপজ্জনক উস্কানি’ ও ‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের পর ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করে। আমিরাত মনে করে, প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর ওপর এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্ব পরিস্থিতির এমন টালমাটাল অবস্থায় আমিরাত একদিকে যেমন নিজেদের আকাশসীমা ও নাগরিক সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে না জড়ানোর এই ঘোষণা তাদের একটি সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও গত এক সপ্তাহে তুরস্ককে লক্ষ্য করে এটি ছিল ইরানের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা, যা আঙ্কারার পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে অস্বীকার করা হয়েছিল।