জুন মাসেই চালু হচ্ছে জাতীয় ‘ই-হেলথ কার্ড’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে আগামী জুন মাসের মধ্যেই ‘জাতীয় ই-হেলথ কার্ড’ চালু করার জোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ই-হেলথ আইডি বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক এক কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এই কার্ড বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ই-হেলথ কার্ড চালু হলে একজন রোগী দেশের যেকোনো প্রান্তেই চিকিৎসা নিন না কেন, তাঁর আগের সব পরীক্ষার রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে দেখতে পারবেন। এতে রোগ নির্ণয় হবে আরও দ্রুত ও নির্ভুল।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকারের তিনটি মেগা উদ্যোগের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এরই মধ্যে সফলভাবে চালু হয়েছে। এখন ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, বরং স্বাস্থ্যখাতের একটি মৌলিক ডিজিটাল কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, যা হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মধ্যে রোগীর তথ্য নিরাপদ বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ডিজিটাল হেলথ ইকোসিস্টেমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজপ্রাপ্য হবে এবং তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এই ডিজিটাল রূপান্তরে বাংলাদেশকে সব ধরনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী উপাত্তের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালায় জাতীয় পর্যায়ে ই-হেলথ কার্ড বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।