সংসদ হবে সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র: ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্রের এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা জনাব তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, জাতীয় সংসদই হবে দেশের সকল সমস্যা সমাধান ও গঠনমূলক যুক্তিতর্কের প্রধান কেন্দ্র।
বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ কক্ষে প্রবেশ করলে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই ছিল তাঁর সংসদে প্রথম অংশগ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে চব্বিশের ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “দেশে আজ থেকে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। আমরা এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি মানুষের মতের গুরুত্ব থাকবে।”
প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, তাঁর দীর্ঘ লড়াই আজ সফল হয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “আমি কেবল একটি দলের প্রধানমন্ত্রী নই, আমি দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলা এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে কোনো মতভেদ থাকতে পারে না।”
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকারের পদ শূন্য থাকায় প্রধানমন্ত্রী নিয়ম অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এই প্রস্তাবে সমর্থন জানালে ড. মোশাররফ অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে এই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হলো।