হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ইউয়ানে তেলের দাম মেটানোর শর্ত ইরানেরঃ চ্যালেঞ্জের মুখে মার্কিন ডলার!

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিত আকারে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে ইরান। তবে এ ক্ষেত্রে তেহরান একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে—তেলের দাম পরিশোধ করতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে। ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে এই নতুন পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
মূলত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরান এখন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প মুদ্রায় লেনদেন উৎসাহিত করতে চাইছে। এর আগে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তারা রুবল ও ইউয়ানে তেলের লেনদেন শুরু করেছিল; এবার ইরানও সেই একই পথে হাঁটার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপের পেছনে গভীর ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। গত পাঁচ দশক ধরে বিশ্ববাজারে তেল কেনাবেচার প্রধান মাধ্যম ছিল মার্কিন ডলার, যা ‘পেট্রোডলার’ নামে পরিচিত। ইরানের এই ইউয়ান ব্যবহারের শর্ত কার্যকর হলে সেই দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থার মূলে বড় ধরনের আঘাত পড়বে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইরান ডলারের একচেটিয়া ক্ষমতা খর্ব করে ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা ডলারমুক্ত বিশ্ব অর্থনীতির আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে ডলারের চাহিদা কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যদিও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের মান সাময়িকভাবে শক্তিশালী হতে পারে, তবে তেলের বাজারের বড় অংশ যদি পাকাপাকিভাবে ইউয়ানে চলে যায়, তবে ডলারের বৈশ্বিক নেতৃত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে তৈরি হওয়া এই অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ইতোমধ্যে আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। বর্তমানে তেলের দাম ২০২২ সালের জুলাইয়ের সর্বোচ্চ সীমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মানবিক বিষয়-সংক্রান্ত আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার সতর্ক করেছেন যে, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে গেলে খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এর ফলে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সুদূরপ্রসারী সংকটের মুখে পড়বে।