↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২০ মার্চ ২০২৬, ৪:১৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:২৮ পি.এম

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: জাহাজ কেনা ও নিয়োগে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও শিপিং খাতজুড়ে বড় ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগে নড়েচড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে চুক্তি প্রদান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি।

দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২২-২৩ সালে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন ৬টি জাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিলেও শেষ পর্যন্ত ৪টি কেনা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪৮৬ কোটি টাকার আর্থিক অসংগতির তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি দীর্ঘমেয়াদি তেল পরিবহন চুক্তিতে বাজারদরের চেয়ে প্রতি মেট্রিক টনে ৩০ থেকে ৪০ ডলার বেশি পরিশোধ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, এস এম মনিরুজ্জামানের ছেলে মুহতাসিম ইয়াসার নিউইয়র্ক ও দুবাইয়ে নরভিক শিপিং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে ‘মুকুল কনস্ট্রাকশন’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে বিপুল সম্পদ পাচারের তথ্য পেয়েছে দুদক। মো. সাজিদ হাসান ও তানজিম হাসানের নামে এসব আবাসিক সম্পদ কেনা হলেও আয়ের উৎসের সঙ্গে এর কোনো সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতিগ্রস্ত এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দুদকের উপ-পরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাতকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি শক্তিশালী অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অন্য সদস্যরা হলেন তানজির হাসিব সরকার, রাজু আহমেদ এবং আবু বকর সিদ্দিক। তারা ইতোমধ্যে প্রকল্প অবকাঠামো উন্নয়ন, ড্রেজিং এবং নিয়োগ বাণিজ্যের নথি সংগ্রহ শুরু করেছেন।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. আক্তার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিং প্রকল্পসহ একাধিক বড় প্রকল্পে টেন্ডার জালিয়াতি ও অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।