হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরম আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে না দেওয়া হলে ইরানজুড়ে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি। রবিবার (২২ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ মার্চ) ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “যদি ইরান এই মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত না করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানবে এবং সেগুলো ধ্বংস করে দেবে। আমরা সবচেয়ে বড়টি দিয়ে শুরু করব।” হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্পের ওপর জলপথটি সচল করার তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের এই হুমকির পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। তারা জানিয়েছে, যদি ইরানের জাতীয় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে কোনো আঘাত আসে, তবে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর যাবতীয় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র রাষ্ট্রগুলো ছাড়া বাকি বিশ্বের জন্য এই জলপথ খোলা রয়েছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য অনেক দেশ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই কড়া হুমকি এমন এক সময়ে এলো যার মাত্র একদিন আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ কথা বলেছিলেন। গত শুক্রবারও তিনি লিখেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, চলতি সপ্তাহে ইরানি উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র গুদামে পাঁচ হাজার পাউন্ডের বোমা হামলার ফলে তেহরানের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে। আল-জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি ম্যানুয়েল রাপালো মনে করছেন, হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবির মধ্যে এক ধরনের অসংগতি স্পষ্ট হচ্ছে। সামরিক বাহিনী যেখানে সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করছে, সেখানে ট্রাম্প নতুন করে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিচ্ছেন। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী এই প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।