↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৩ মার্চ ২০২৬, ৪:০১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২২ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ এ.এম

জ্বালানি সংকট, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: ঈদের পর নতুন সরকারের সামনে ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ঈদুল ফিতরের ছুটির আমেজ শেষ হতেই নতুন সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে নানামুখী কঠিন চ্যালেঞ্জ। অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, নড়বড়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—এই তিনটিই হতে যাচ্ছে সরকারের মূল পরীক্ষা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের চাপ।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপ: ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি যুদ্ধ এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের কৃষি, শিল্প ও রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক পুনর্গঠনই এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার স্পট মার্কেট ও বিকল্প উৎসের খোঁজ করছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করেছেন যে, ঈদের পর কলকারখানা পূর্ণ শক্তিতে চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষি সেচ ও সারের জন্য জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট ও চড়া মূল্যে তেল আমদানির কারণে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় চাপ তৈরি হবে।

রাজনীতির মাঠের সমীকরণ: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হতে পারে। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা বিরোধীদের আন্দোলনের সুযোগ করে দেবে। তবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের মতে, রাজনৈতিক সমীকরণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা গেলেও বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলাই এখন বড় অগ্রাধিকার।

সামনে অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নও সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটানো, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ডের সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো এবং আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রক্ষা করা বেশ কঠিন হবে। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রিজার্ভের ক্ষয় রোধে সরকারকে অত্যন্ত সুচিন্তিত পদক্ষেপ নিতে হবে।