ইরানে হামলা অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে এবং তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘চাপ’ দিয়ে যাচ্ছেন। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তাকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি’। তাই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হওয়ার আগেই এই সরকারকে নির্মূল করতে হবে। ট্রাম্প মাঝেমধ্যে যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও যুবরাজ যুক্তি দেখাচ্ছেন যে সেটি করলে ভুল হবে।
তাছাড়া তেহরান সরকারকে দুর্বল করতে যুবরাজ ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর জোরালো দাবিও জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কথোপকথন নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না।
যুদ্ধের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই এই খবর সামনে এল। এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়ে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন ট্রাম্প। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, আগামী পাঁচ দিন ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো হামলা হবে না। যদিও ট্রাম্পের এই আলোচনার দাবি ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনাই হয়নি।
অন্যদিকে এই আলোচনার দাবির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ইস্পাহান ও খোররামশহর নগরীর জ্বালানিকেন্দ্রে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের আধাসরকারি ফারস বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইস্পাহানের কাভেহ সড়কে একটি গ্যাস স্থাপনা ও গ্যাস প্রেসার রিডাকশন স্টেশনে হামলা হয়েছে। এতে গ্যাসকেন্দ্র ছাড়াও আশপাশের আবাসিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই হামলার জবাবে ইসরায়েলের দিকে ঢেউয়ের পর ঢেউয়ের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত ইসরায়েলে পাঁচবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্রের অধিকাংশ ধ্বংস করা হলেও ধ্বংসাবশেষ বিয়ারশেবা শহরের আবাসিক এলাকায় পড়েছে। তাছাড়া রয়টার্স জানিয়েছে, তেল আবিবসহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যাতে বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।