↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৭ মার্চ ২০২৬, ৪:০৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৬ মার্চ ২০২৬, ১:১৮ এ.এম

মার্কিন-ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র রাখার সিদ্ধান্ত সঠিক: কিম জং উন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিই প্রমাণ করে যে নিজের দেশের পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের চাপ প্রত্যাখ্যান করে পিয়ংইয়ং সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দেশটির সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভাষণে কিম জং উন সরাসরি নাম উল্লেখ না করে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সন্ত্রাসবাদ এবং আগ্রাসনের’ অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের জন্য আমেরিকার ‘মিষ্টি কথা’ ও চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে উত্তর কোরিয়া যৌক্তিক কাজ করেছে। একই সাথে তিনি ঘোষণা করেন যে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু শক্তিধর দেশের মর্যাদা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’।

উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস যে, পরমাণু অস্ত্রহীন দেশগুলো আমেরিকার সামরিক শক্তির সামনে অরক্ষিত থাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করার দাবি করার কয়েক মাস পরেই দেশটির ওপর হামলা শুরু করেন। কিমের মতে, এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে যে কেবল পরমাণু অস্ত্রই পারে মার্কিন আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত দিলেও কিমের সাম্প্রতিক এই বক্তব্য আলোচনার নতুন মোড় তৈরি করতে পারে। কিম জং উন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই উত্তর কোরিয়াকে একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। ফলে ২০১৯ সালের মতো পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনো আলোচনা এখন আর সম্ভব নয়। তাছাড়া কিম তার মেয়ে কিম জু আয়ে-কে সম্প্রতি বিভিন্ন সামরিক মহড়ায় সামনে নিয়ে আসছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই পরমাণু কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার অংশ।

এরই পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক ক্রমেই আরও শক্তিশালী হচ্ছে। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইউক্রেন সীমান্তের কাছে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের প্রশিক্ষণের দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে। বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে খাদ্য, জ্বালানি এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পাচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কিম জং উন ওয়াশিংটনের জন্য আলোচনার দরজা একদম বন্ধ না করলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে— আলোচনা হতে পারে, কিন্তু পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করে নয়।