শিক্ষা খাতকে ‘ইবাদতখানা’ আখ্যা দিয়ে শিক্ষকদের বিশেষ নির্দেশনা দিলেন এহছানুল হক মিলন

নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) নতুন জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “শিক্ষকেরা হচ্ছেন জাতির ‘কায়রোপ্রাকটিক ডাক্তার’, যারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলেন। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরই বর্তায়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, আগামীর বাংলাদেশ গঠন কোনো একক ব্যক্তি বা সরকারের এজেন্ডা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার যেখানে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত ত্রুটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো পাবলিক পরীক্ষা নিতে পরবর্তী বছরের এপ্রিল বা জুন পর্যন্ত সময় নেয়। এই দীর্ঘসূত্রিতার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় ক্ষতি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষা খাতকে একটি ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষকের ভালো শিক্ষাদানের সুফল ‘সদকায়ে জারিয়া’র মতো, যা দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণ বয়ে আনে। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত সুপারিশ আহ্বান করেন তিনি, যাতে ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম আরও উন্নত ও সময়োপযোগী করা যায়।