↩ নিউজ
প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ মার্চ ২০২৬, ৮:১৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ৩০ মার্চ ২০২৬, ১:৪৮ এ.এম

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন: প্রশাসনে চাঞ্চল্য ও আশার আলো

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

এক নতুন কর্মসংস্কৃতি ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার নজির স্থাপন করে সচিবালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টার পরপরই সচিবালয়ে প্রবেশ করে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজের দপ্তরে না গিয়ে সরাসরি বিভিন্ন ভবনে অবস্থিত মন্ত্রণালয়গুলোতে চলে যান।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু) জানান, প্রধানমন্ত্রী হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানি সম্পদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, বাণিজ্য এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন তিনি। এই পরিদর্শনের সময় তিনি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং কাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।

এক মাসে বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপট: গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। দীর্ঘ ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে প্রথম মাসেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া প্রত্যাহার, ই-হেলথ কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং কৃষিঋণ মওকুফ।

প্রশাসনিক বার্তা ও সরল জীবনযাপন: প্রধানমন্ত্রী নিজে যখন সকাল ৯টায় দপ্তরে উপস্থিত হচ্ছেন, তখন এটি সচিবালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে কাজ করছে। যানজটে সাধারণ মানুষের সাথে আটকে থাকা এবং ভিআইপি প্রটোকল কমিয়ে আনার বিষয়টি জনমনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শন প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আমরা তাকে কাছে পেয়ে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত।”

আগামীর পরিকল্পনা: আজ সোমবারও প্রধানমন্ত্রী বেশ ব্যস্ত সময় কাটাবেন। তিনি ‘কৃষক কার্ড’ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন, যেখানে কৃষি, অর্থ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া আজও বেশ কিছু মন্ত্রণালয় তিনি আকস্মিক পরিদর্শন করতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার যে বদ্ধপরিকর, প্রধানমন্ত্রীর এই তৎপরতা তারই প্রমাণ দিচ্ছে।