হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ফি নিচ্ছে ইরান, চুক্তির লঙ্ঘন দাবি ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি এক ভঙ্গুর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক পোস্টে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে ইরান অত্যন্ত ‘খারাপ কাজ’ করছে। ট্রাম্পের মতে, ইরান জাহাজগুলো থেকে যে ফি আদায় করছে তা চুক্তিতে ছিল না এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিরল লিখিত বার্তা প্রচার করা হয়েছে। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ইরান সরকার হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনাকে একটি ‘নতুন পর্যায়ে’ নিয়ে যাবে। খামেনি এই যুদ্ধে ইরানকে ‘বিজয়ী পক্ষ’ দাবি করে যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তবে ‘নতুন পর্যায়’ বলতে তিনি ঠিক কী বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী এই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে দ্রুত জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তবে লেবানন ইস্যুতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হলেও ইসরায়েল সেখানে হামলা অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ৩ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই সপ্তাহের এই সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত টিকবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।