সংসদে ২৪টি বিল পাস: ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ ও ‘শহীদ পরিবার কল্যাণ’ বিল অনুমোদন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে আজ জাতীয় সংসদে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১৩তম দিনের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এই বিলগুলো পাস হয়। আজকের এই পাসের মধ্য দিয়ে চলতি অধিবেশনে পাস হওয়া মোট বিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১টিতে।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের পুনর্বাসন বিলটি উত্থাপন করেন এবং সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাদুঘর বিলটি উত্থাপন করেন। জাদুঘর বিলে মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য আনিছুর রহমানের আনা তিনটি সংশোধনী গ্রহণ করে বিলটি স্থিরকৃত আকারে পাস করা হয়।
অধিবেশনের সকালে ১০টি বিল পাস হয় এবং পরে আরও ১৪টি বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল উত্থাপন করলে সেগুলো পাস হয়। এছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমানত সুরক্ষা, ব্যাংক রেজল্যুশন এবং গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিলসহ বেশ কিছু বিল পাস হয়েছে। ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপনের সময় ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলীয় সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) সাইফুল ইসলাম মিলন জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিলেও তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এছাড়াও সাইবার সুরক্ষা বিল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল এবং ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিলটিও আজ অধিবেশনে অনুমোদন পেয়েছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিশেষ কমিটি ১১২টি বিল আকারে পাসের সুপারিশ করেছিল, যারই ধারাবাহিকতায় এই আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।