পূর্বাচল প্লট দুর্নীতির মামলা: শেখ হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের মামলার রায় কাল

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় আগামীকাল সোমবার ঘোষণা হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং তার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ মোট ১৭ জন এই মামলায় আসামি হিসেবে অভিযুক্ত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) তরিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম এই রায় ঘোষণা করবেন।

এ মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের বিভিন্ন স্তরের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা। আসামিরা হলেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন-২) মো. অলিউল্লাহ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) মাজহারুল ইসলাম, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি) নায়েব আলী শরীফ এবং শেখ হাসিনার একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

উল্লখ্য, গত ৩১ জুলাই আদালত এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য ও অন্যদের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা করেছিল দুদক। এর মধ্যে তিনটি মামলার রায় গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়। সেই রায়ে শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। একই ধরনের অন্য দুটি মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়। এছাড়াও, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের প্লট বরাদ্দ-সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা অন্যান্য আসামিদেরও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এখন সবার নজর এই বহুল আলোচিত মামলার আগামীকালের রায়ের দিকে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং বিচারিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *