বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর যেসব সদস্য অন্যায়ভাবে বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায় সামরিক বাহিনীর এই সকল বঞ্চিত সদস্যদেরও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রবিবার (৩০ নভেম্বর) তিনি এই সংক্রান্ত একটি কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
বিগত সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) চাকরিতে বৈষম্য, বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার অবসরপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত অফিসারদের আবেদন পর্যালোচনা করে যথার্থ সুপারিশ পেশের জন্য গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদনটি এদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, কমিটি যে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছে তা ‘রীতিমতো ভয়াবহ’ এবং ‘কল্পনার একেবারে বাইরে’।
কমিটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ জানান, কমিটি মোট ৭৩৩টি আবেদন পেয়েছিল, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১৪৫টি আবেদন সুপারিশের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীতে ১১৪ জন, নৌবাহিনীতে ১৯ জন এবং বিমান বাহিনীতে ১২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
কমিটির অনুসন্ধানে যেসব গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে তার মধ্যে রয়েছে: ছয় জন অফিসারকে আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা জঙ্গি অপবাদ দিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিভিন্ন মেয়াদে (১ বছর হতে ৮ বছর পর্যন্ত) গুম করে রাখা; একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে হত্যা করা; এবং বিডিআর হত্যাযজ্ঞে সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় সোচ্চার পাঁচ জন অফিসারকে মিথ্যা মামলায় ব্যাপক নির্যাতন করা। এছাড়াও, ধর্মীয় আচার-আচরণ নিয়ম-নিষ্ঠার সাথে পালন করার কারণে কয়েকজন কনিষ্ঠ অফিসারকে অন্যায়ভাবে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
কমিটি এই ১৪৫ জন কর্মকর্তার জন্য স্বাভাবিক অবসর, পদোন্নতি, অবসরপূর্ব পদোন্নতি, বকেয়া বেতন ও ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি প্রদান করার সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে চারজন সেনা কর্মকর্তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এখন সরকারের পদক্ষেপের দিকে সবার নজর।



