অবসরের কথা বললেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরই মধ্যে দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল জানান, কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও চলতি বছরেই এটি অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনগুলো শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি খুবই ক্লান্ত। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে, এরপরই আমি অবসর নিতে চাই।”

রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা বা আকাঙ্ক্ষা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান, এমন কোনো প্রত্যাশা তার কোনোদিন ছিল না। তিনি মনে করেন, ভাগ্যই তাকে বর্তমান অবস্থানে নিয়ে এসেছে, ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১১ সাল থেকে পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ পদটি সামলাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ছাত্র রাজনীতির হাতেখড়ি নেওয়া এই নেতা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সক্রিয় ছিলেন। পেশাজীবনে শিক্ষকতা করলেও ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ১৯৯০-এর দশকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে জাতীয় রাজনীতিতে উঠে আসেন।

দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিল নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। তবে মির্জা ফখরুলের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার বিদায়ের ঘোষণায় দলে নতুন নেতৃত্বের সমীকরণ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *