টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ গ্রামের কৃষাণী নাসিমা খানম সুমনা। দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে কৃষি কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে এতদিন বঞ্চিত ছিলেন তিনি। তবে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাত থেকে সরাসরি ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণ করে তার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।
কার্ড পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাসিমা খানম বলেন, “বিএনপি সরকার আমাদের স্বার্থে কাজ করবে—এমন ধারণা শুরু থেকেই ছিল। কিন্তু স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কার্ড পাব, তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।” কেবল নাসিমাই নন, ঘারিন্দা ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই কার্ড পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সরকারের এই প্রিপাইলটিং প্রজেক্টের আওতায় কৃষকরা অন্তত ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রাপ্তি। এছাড়াও কৃষকরা কৃষি বিমা ও সরাসরি সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্যে ফসল বিক্রির সুযোগ পাবেন।
আরেক কৃষক মোহাম্মদ আবু কায়সার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আগে দেখতাম জিয়াউর রহমান খাল কেটে মানুষের মন জয় করেছিলেন, বর্তমানে তারেক রহমান কৃষক কার্ড দিয়ে আমাদের মন জয় করেছেন।” একই ধরনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কৃষাণী আমেনা বেগম বলেন, এই কার্ডের ফলে এখন থেকে কৃষি কাজে ব্যয় ও কষ্ট দুই-ই কমবে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে জানান, এই কার্যক্রম তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে কাজ চলছে। এতে কেবল ফসল উৎপাদনকারী নয়, বরং মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খাতের খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং ভূমিহীন প্রান্তিক কৃষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিরাও এই কার্ডের আওতায় আসছেন।



