চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, বোয়ালখালী এবং তিন পার্বত্য জেলার বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের সুরক্ষায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং তিন পার্বত্য রিজিয়ন থেকে সেনাসদস্যরা ছোট ছোট মোবাইল টিমে বিভক্ত হয়ে দুর্গম ও প্রান্তিক অঞ্চলগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সেনাবাহিনীর এই বিশেষ দলগুলো উপদ্রুত এলাকার বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় প্রায় ৫ হাজার স্থানীয় নাগরিককে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়েছে সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গুইমারা রিজিয়নের অধীন লক্ষ্মীছড়ি জোনের বিশেষ উদ্যোগে ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ও হারুয়ালছড়িসহ আশপাশের বন্যাকবলিত এলাকায় এই জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে রাঙ্গামাটির সাজেকসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে আটকা পড়েছিলেন বিপুল সংখ্যক পর্যটক। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং আটকে পড়া প্রায় ৩ হাজার পর্যটককে সম্পূর্ণ নিরাপদে জেলা শহরগুলোতে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, চলমান বন্যা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গত মানুষের কল্যাণে সেনাসদস্যদের এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি অব্যাহত থাকবে।



