পরীক্ষায় কড়াকড়ি নিয়ে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন জ্বালানিমন্ত্রীর, প্রান্তিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা নকল রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কড়াকড়ির বিরুদ্ধে পরীক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষামন্ত্রী একটি স্বচ্ছ ও মানসম্মত পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চান যেন শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশোনার মধ্যে থাকে। এমন একটি ইতিবাচক উদ্যোগের পরও মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন করা দুঃখজনক।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, যারা মাসে সর্বোচ্চ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। দেশের গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ পরিবার এই সীমার মধ্যেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষ কোনো বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়বেন না।

রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক সংস্কারের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনে কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিদিন সকাল ৯টা বাজার ১০ মিনিট আগে সচিবালয়ে উপস্থিত হন, যার ফলে সরকারি কর্মকর্তারাও সময়মতো নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতিকে পুনর্গঠন করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

জালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দেশীয় উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়তি কোনো জ্বালানি খরচের প্রয়োজন হয় না। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে যাবে এবং দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় বিভিন্ন ইউনিয়নে স্প্রে মেশিন, নলকূপ, সেলাইমেশিন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেঞ্চ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।