বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শতভাগ দেশীয় দক্ষ জনশক্তি দিয়ে শিল্প পরিচালনার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রায় অর্ধশতকের পুরোনো এই শিল্পে আজও অনেক কারখানা ও বায়িং হাউজে বিদেশিদের এনে কাজ করানো হয়, অথচ দেশের মানুষের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে পুরো খাত সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শুধু দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া নয়, বাংলাদেশের মেধাবী পেশাজীবীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে বৈশ্বিক শ্রমবাজারেও তাদের চাহিদা তৈরি হয়। বর্তমান সরকার তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিকে মূল লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গঠন এবং কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে পোশাক শিল্পের পাঠ্যক্রম সংস্কারসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিশেষায়িত স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালুর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ইতিহাস তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বন্ডেড ওয়্যারহাউস, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি ও নগদ প্রণোদনার মতো যুগান্তকারী নীতি চালুর মাধ্যমে এ খাতের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু এবং উদ্ভাবনী আধুনিকায়নের মাধ্যমে খাতটির উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির আধুনিকায়ন হলেও যেন কোনো শ্রমিকের কর্মসংস্থান ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে মানবসম্পদ ও প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ের তাগিদ দেন তিনি।
পোশাক খাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, তরুণদের নতুন স্টার্টআপ প্রকল্পে প্রাথমিক মূলধন ও তহবিল সরবরাহের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব বা ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইনোভেশন’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এনবিআরের সদস্য ফারজানা আফরোজ, বিইউএফটি উপাচার্য ইঞ্জিনিয়ার ড. আইয়ুব নবী খানসহ বিদেশি ব্র্যান্ড ও ব্যাংকিং খাতের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনা পর্ব শেষে তিন দিনব্যাপী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।



