আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ৩৫৬তম গভর্নিং বডির অধিবেশনে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের ব্যাপক সমর্থন ও আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী ৪৭টি দেশ প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে নবম অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের ম্যান্ডেটের মূলে রয়েছে মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি। আইএলও-র ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক এজেন্ডা’র সঙ্গে বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনায় উঠে আসে যে, ২০১৯ সালে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শ্রম অধিকার প্রতিপালনে ব্যর্থতার দায়ে আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন কর্তৃক দায়ের করা একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। এই মামলার প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারের নেওয়া সুদৃঢ় আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রশংসা করেছে ১৯টি রাষ্ট্র এবং দুটি আঞ্চলিক গ্রুপ (আরব গ্রুপ ও উপসাগরীয় গ্রুপ)। এর মধ্যে অধিকাংশ দেশই মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে।
শ্রম আইন সংশোধন প্রসঙ্গে মাহদী আমিন জানান, ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’ কে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে তাদের মতামত দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ ও আইন সংশোধনের অগ্রগতির প্রশংসা করেছেন এবং রোডম্যাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং উপদেষ্টা মাহদী আমিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলটি অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিনিধি দলটি আগামী ২ এপ্রিল দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



