শত্রুপক্ষকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো নতুন মারণাস্ত্র আনছে ইরান: নৌবাহিনী প্রধান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইরান খুব শিগগিরই এমন এক শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্র জনসমক্ষে আনতে যাচ্ছে, যা দেখে শত্রুপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক’ করবে বা চরমভাবে স্তব্ধ হয়ে যাবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানির এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

কমান্ডার শাহরাম ইরানি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের সাম্প্রতিক উসকানি ও আগ্রাসন সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, শত্রুরা ভেবেছিল দ্রুতই তাদের কাঙ্ক্ষিত ফল মিলবে, কিন্তু এখন তাদের সেই কৌশল বিশ্বের সামরিক একাডেমিগুলোতে হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

নৌবাহিনীর সাম্প্রতিক প্রতিশোধমূলক অভিযানের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর ওপর অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলার ফলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই রণতরী থেকে কোনো যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন বা আকাশপথের কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার মুখে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০ বার সফল পাল্টা আঘাত হেনেছে। ইরানি কমান্ডারের মতে, মার্কিন বাহিনী তাদের নৌ-প্ল্যাটফর্ম থেকে ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও বর্তমানে তারা চরম অচলাবস্থায় রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ ও বন্দরে অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর তেহরান পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। শাহরাম ইরানি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান এখন আরব সাগরের দিক থেকেও এই প্রণালীটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘জলদস্যুতা’ ও ‘জিম্মি করার’ অভিযোগ এনে নৌপ্রধান বলেন, তারা ইরানি জাহাজ ও নাবিকদের জিম্মি করে নৃশংসতা চালাচ্ছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর এবং শত্রুর ওপর এমন আঘাত হানা হবে যা তাদের গভীর অনুশোচনায় ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *