যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক উত্তেজনা প্রশমন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সীমিত আকারের সামরিক উত্তেজনা এবং এর রেশ ধরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। মূলত শুক্রবারের সামরিক সংঘাতটি দীর্ঘমেয়াদি কোনো রূপ নেয়নি—বিনিয়োগকারীদের এমন ইতিবাচক মূল্যায়নের পরই বাজারে এই প্রভাব পড়ে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিশ্ববাজারে তেলের প্রধান প্রধান বেঞ্চমার্কগুলোতে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তেল ও জ্বালানি বিষয়ক ওয়েবসাইট অয়েলপ্রাইজ ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৯৪ ডলার বা ২.০৪ শতাংশ কমে ৯৩.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২.৬ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯০.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য তেলের মধ্যে মারবান ক্রুডের দাম ৩.০২ শতাংশ কমে ৯০.৬৮ ডলার এবং ওয়েস্টার্ন কানাডিয়ান সিলেক্টের দাম ৩.৫*৬ শতাংশ কমে ৮০.৬৯ ডলারে নেমেছে। তেলের পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের দামেও পতন লক্ষ্য করা গেছে, তবে গ্যাসোলিনের দাম সামান্য (০.২৫ শতাংশ) বেড়েছে।

এর আগে শুক্রবার ভারত মহাসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার পাশাপাশি আত্মরক্ষার্থে ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ড্রোনগুলো আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি ছিল। এই হামলার জবাবে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও কেশম দ্বীপের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটে মার্কিন বাহিনী আঘাত হানে।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় থাকা এবং ইরানের তথাকথিত ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ বা গুপ্ত নৌবহরের অংশ ‘এমটি ডভিনা’ নামক একটি সুপারট্যাংকার জব্দ করে। মার্কিন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে, ২০২৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকা এই ট্যাংকারটি অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনে পাচার করে আসছিল। তবে এই পুরো অভিযানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর থেকেই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় তেহরান। জবাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দরগুলোতে নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বাজারে চরম অস্থিরতা চলছিল, যা বছরের শুরুতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আলোচনার মাঝে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে প্রায়ই উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তবে শনিবারের এই দরপতন প্রমাণ করে যে শুক্রবারের মার্কিন-ইরান সামরিক সংঘাতটি বড় কোনো যুদ্ধের দিকে মোড় নেয়নি এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আপাতত ঝুঁকিতে পড়ছে না বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।