জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা স্মারক সই

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে এই চুক্তিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

দূতাবাস জানায়, এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। এটি সাশ্রয়ী মূল্য ও সাপ্লাই চেইনের টেকসইতার ওপর ভিত্তি করে জ্বালানি উৎস বহুমুখীকরণে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন হবে।

চুক্তির শর্ত ও কার্যকারিতার আওতায় দুই দেশের মধ্যে তেল, গ্যাস, ভূতাপীয় ও জৈবশক্তি বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান ও দক্ষতা বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা সহজতর হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বাংলাদেশের আমদানির ক্ষেত্রে এটি বড় ধরনের সুবিধা তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই সমঝোতা স্মারককে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরেকটি বড় মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি এই দূরদর্শী উদ্যোগের প্রতি সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এই সমঝোতা স্মারককে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।