তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রচলিত সম্পর্কের বাইরে বাংলাদেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা বাড়াতে আগ্রহী তুরস্ক। সেই বিশেষ বার্তা নিয়ে আগামীকাল ৪ জুন তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও তাঁর মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

একাধিক কারণে হাকান ফিদানের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর এটি বাংলাদেশে তুরস্কের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম সফর। একই সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ কোনো দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই প্রথম ঢাকা সফর।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সফরটি কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নিয়মিত ধারাবাহিকতা নয়, এর মধ্যে একটি গভীর রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তুরস্ক দ্রুত ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করে। গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আঙ্কারা সফর করেছিলেন এবং ঢাকায় এটি তারই ফিরতি সফর।

তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের মতে, হাকান ফিদান কেবল একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নন; তিনি দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির (MIT) সাবেক প্রধান এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁকে তুরস্কের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতির অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে তাঁর এই সফরকে গবেষকরা রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন হিসেবে দেখছেন।

ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, এই সফরের আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সমন্বয় গুরুত্ব পেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্ক ড্রোনসহ নিজস্ব সামরিক প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশও প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, সফরকালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির পরিদর্শন করতে পারেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে আঙ্কারা বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি অন্যতম সক্রিয় সমর্থক দেশ হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ঢাকা ও আঙ্কারা তাদের সম্পর্ককে বাণিজ্যিক সহযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিসরে নিয়ে যেতে আগ্রহী। ফলে হাকান ফিদানের আসন্ন ঢাকা সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।