প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। বুধবার (১ জুলাই) বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইনসমূহ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কাজ সম্পন্ন হবে।

তাছাড়া দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাপানের আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বৈঠকে অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। উপ-প্রেস সচিব জানান, বাংলাদেশকে দেওয়া জাপানের বর্তমান ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি সহায়তা ৫০০ মিলিয়নে উন্নীত করার অনুরোধ জানানো হলে জাপানি পক্ষ তাতে ইতিবাচক সাড়া দেয়। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার অংশ হিসেবে বৈঠকে জাপানি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ৫টি প্যাট্রোল বোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে। অন্যদিকে বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বৈঠকের শেষভাগে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।

জাপানের প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ব্যুরোর পরিচালক হিরোসে আইকো, জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো এবং জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাশি জুনকো।