প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট পরিদর্শন, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান নৌ-প্রতিমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌ-পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। বুধবার (১ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে তিনি ঘাট এলাকায় এসে নির্মাণাধীন ৫নং ঘাট এবং চালু থাকা ৪নং ঘাটের সামগ্রিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তাকে সরাসরি নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনার আলোকেই এই জরুরি পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অ্যাপ্রোচ সড়কে বাঁশ ব্যবহারের কারিগরি ব্যাখ্যা দিয়ে রাজিব আহসান বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো সাময়িক ও নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নির্মিত হয়। এই বিশেষ ভৌগোলিক কারণে ১৯৬৩ সাল থেকেই দেশের ফেরিঘাটগুলোর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে রডের পরিবর্তে নির্দিষ্ট শিডিউল মেনেই বাঁশ ব্যবহার করা হয়ে আসছে। কাজের শিডিউলেও বাঁশ ব্যবহারের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে এবং এতে কোনো কারিগরি ত্রুটি বা সমস্যা হয় না।

তিনি আরও বলেন, ফেরিঘাটে সাধারণত তীব্র নদী ভাঙন হয়ে থাকে বিধায় সেখানে স্থায়ীভাবে রড ব্যবহার করে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর। দীর্ঘ বহু বছর ধরে চলমান এই কারিগরি প্রক্রিয়াটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করায় সরকার বিব্রত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও বেশি খোঁজখবর নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা কাজের তথ্যসংক্রান্ত জটিলতার কথা তুলে ধরে জানান, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ঘাটে কী ধরনের কাজ করছে সে বিষয়ে গণমাধ্যমকে আগে থেকে অবহিত করে না। এমনকি প্রয়োজনের সময় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ফোনে পাওয়া যায় না এবং কাজের বিবরণ সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ডও ঘাটে দৃশ্যমান থাকে না।

সাংবাদিকদের এই অভিযোগের জবাবে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে আশ্বস্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে তথ্যগত ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে কাজের বিস্তারিত বিবরণ ও বরাদ্দ উল্লেখ করে প্রকল্প এলাকায় বাধ্যতামূলকভাবে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হবে।

ঘাট এলাকার যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া দুটি বাস ডুবির ঘটনার পর থেকে যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেরিতে যত্রতত্র ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রীবাহী বাস ওঠানামা বন্ধ করতে প্রতিটি ফেরিঘাটে হাইড্রোলিক ব্যারিয়ার ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসি’র পরিচালক (বাণিজ্য) মো. আশিকুজ্জামান, আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম মো. সালাম হোসেন এবং পরিচালক (কারিগরি) হাসেমুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।