কক্সবাজারে বন্যাদুর্গতদের মাঝে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী: পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতবিক্ষত কক্সবাজারের বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে দেখতে জেলার বিভিন্ন উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়া এলাকায় যান এবং সেখানে বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী পরিবেশ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অতীতে যেভাবে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পাহাড়খেকোরা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, দেশের পরিবেশ রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি কোথাও স্লুইসগেট বন্ধ রেখে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

দুর্যোগগ্রস্ত নাগরিকদের নির্বাচিত সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের গ্রামীণ ও শহর অবকাঠামো দ্রুত সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যজীবী, গবাদিপশুর খামারি ও বসতবাড়ি হারানো পরিবারগুলোকে অতি দ্রুত সরকারি পুনর্বাসন সহায়তার আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্লাবিত অঞ্চলের বন্যার পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করবে।

সরেজমিনে পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের এই কার্যক্রমে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং জেলা পুলিশ ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।